Independence Day

Bangladesh • March 26, 2026 • Thursday

82
Days
14
Hours
26
Mins
28
Secs
until Independence Day
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Independence Day
Country
Bangladesh
Date
March 26, 2026
Day of Week
Thursday
Status
82 days away
About this Holiday
Independence Day is a government holiday in Bangladesh

About Independence Day

Also known as: স্বাধীনতা দিবস

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস: একটি জাতির মুক্তি ও আত্মত্যাগের মহাকাব্য

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বা ২৬শে মার্চ কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, বীরত্ব এবং দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের দিন। প্রতি বছর এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, শোক এবং উৎসবের এক অনন্য সংমিশ্রণে পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এটি ছিল দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা, যার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি নিজস্ব মানচিত্র এবং লাল-সবুজের পতাকা।

এই দিনটির বিশেষত্ব এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নিহিত। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক শোষণের শিকার হয়েছে। যখন ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় সত্ত্বেও বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে দমন-পীড়ন শুরু হয়, তখন জাতি একতাবদ্ধ হয়। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু করে, তখন বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা ছিল একটি পরাধীন জাতির শৃঙ্খলমুক্তির চূড়ান্ত ডাক।

স্বাধীনতা দিবস আমাদের একতার প্রতীক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব। এই দিনটিতে আমরা যেমন আমাদের বীর শহীদদের স্মরণে ব্যথিত হই, তেমনি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করি। এটি কেবল একটি সরকারি ছুটির দিন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তুলে ধরার একটি সুযোগ।

2026 সালে স্বাধীনতা দিবস কবে?

বাংলাদেশ প্রতি বছর ২৬শে মার্চ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্বাধীনতা দিবস পালন করে। আগামী বছর এই বিশেষ দিনটির সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:

তারিখ: March 26, 2026 বার: Thursday অবশিষ্ট সময়: এই গৌরবোজ্জ্বল দিনটি আসতে আর মাত্র 82 দিন বাকি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস একটি নির্দিষ্ট তারিখের উৎসব। প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৬শে মার্চ এটি পালিত হয়। এটি পরিবর্তনশীল কোনো দিবস নয়, কারণ এই নির্দিষ্ট তারিখেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

ঐতিহাসিক পটভূমি: শৃঙ্খল মুক্তির সংগ্রাম

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দূরত্ব তৈরি হয়।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালিদের স্বাধিকার চেতনার প্রথম ধাপ। এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরালো হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটায় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৭০-এর নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংকট

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা।

২৫শে মার্চের কালরাত ও অপারেশন সার্চলাইট

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তারা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই নিষ্ঠুর গণহত্যা বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

২৬শে মার্চের ঘোষণা

২৫শে মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর এই বার্তাটি ওয়ারলেসের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা সারা দেশের মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

মুক্তিযুদ্ধ এবং চূড়ান্ত বিজয়

২৬শে মার্চের ঘোষণার পর শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মিলে গঠন করেন 'মুক্তি বাহিনী'। ভারতের সহযোগিতায় দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তবে ২৬শে মার্চকেই স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ধরা হয় কারণ এই দিন থেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং ২ লক্ষাধিক নারী লাঞ্ছিত হন।

স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন এবং ঐতিহ্য

বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য এবং উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। দিনটি শুরু হয় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ এই দিনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে। স্মৃতিসৌধটি এর স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে আমাদের সাতটি প্রধান আন্দোলনের পর্যায়কে তুলে ধরে।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন

এই দিনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাস্তাঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে লাল-সবুজ আলো এবং পতাকায় সজ্জিত করা হয়। এটি দেশের প্রতি নাগরিকদের মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।

কুচকাওয়াজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত এবং ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। এছাড়া ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশাত্মবোধক গান এবং নাটকের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করে।

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'স্বাধীনতা পুরস্কার' প্রদান করে। এটি গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক অংশগ্রহণ

স্বাধীনতা দিবস কেবল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দিনে অংশগ্রহণ করে।

১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: স্কুল এবং কলেজগুলোতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শিশুদের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২. গণমাধ্যম: টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ টকশো, তথ্যচিত্র এবং যুদ্ধের চলচ্চিত্র সম্প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অনেক তথ্য উঠে আসে। ৩. মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় প্রার্থনা: দেশের মঙ্গল এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য নির্দেশিকা

আপনি যদি ২৬শে মার্চের সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেন, তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি অনুভব করার জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখতে পারেন:

পোশাক: এই দিনে অধিকাংশ মানুষ লাল এবং সবুজ রঙের পোশাক পরিধান করেন। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় শালীন এবং মার্জিত পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। যাতায়াত: ঢাকা থেকে সাভারে যাওয়ার রাস্তা এই দিনে বেশ জনাকীর্ণ থাকে। তাই খুব ভোরে রওনা হওয়া ভালো। ঢাকার ভেতরেও বিভিন্ন র‍্যালি এবং অনুষ্ঠানের কারণে যানজট হতে পারে। ফটোগ্রাফি: স্মৃতিসৌধ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ছবি তোলা সাধারণত অনুমোদিত, তবে শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। আবহাওয়া: মার্চ মাসের শেষে বাংলাদেশে তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আবহাওয়া বেশ উষ্ণ হতে পারে এবং মাঝে মাঝে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি হতে পারে। তাই সুতির হালকা পোশাক সাথে রাখা আরামদায়ক হবে।

এটি কি সরকারি ছুটি?

হ্যাঁ, ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় সরকারি ছুটি।

কি কি বন্ধ থাকে: সকল সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই দিনে বন্ধ থাকে। অধিকাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এই ছুটি পালন করে।

  • কি কি খোলা থাকে: হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের মতো জরুরি সেবাগুলো চালু থাকে। বড় শপিং মলগুলো বিকেলের দিকে খোলা হতে পারে, তবে ছোট দোকানপাট অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ থাকে। গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচল করে।
স্বাধীনতা দিবস আমাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করায় এবং একটি সুখী-সমৃদ্ধ 'সোনার বাংলা' গড়ার শপথ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি আমাদের অস্তিত্বের শিকড় এবং জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। 2026 সালের ২৬শে মার্চে আমরা আবারও সেই বীরদের স্মরণ করব যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন।

Frequently Asked Questions

Common questions about Independence Day in Bangladesh

২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস March 26, 2026, Thursday তারিখে পালিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসটি আসতে আর মাত্র 82 দিন বাকি রয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে। প্রতি বছর এই দিনটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গাম্ভীর্যের সাথে সারা দেশে উদযাপিত হয়।

হ্যাঁ, ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের একটি জাতীয় সরকারি ছুটি। এই দিনে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস হওয়ায় দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে জরুরি সেবাসমূহ চালু থাকে এবং স্মৃতিসৌধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে, তাই যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক এক নৃশংস গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর আগে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এই ঘোষণার পর শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটি মূলত বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুল-কলেজে কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয় এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

অনেকেই এই দুটি দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন, তবে এদের তাৎপর্য ভিন্ন। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস হলো সেই দিন যেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস হলো সেই দিন যেদিন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল এবং আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। স্বাধীনতা দিবস হলো সংগ্রামের শুরুর দিন আর বিজয় দিবস হলো বিজয়ের আনন্দের দিন।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করা একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে এই স্থানগুলোতে অনেক ভিড় থাকে, তাই খুব ভোরে যাওয়াই ভালো। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং পরিবেশের গাম্ভীর্য বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। মার্চ মাসে বাংলাদেশের তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে এবং আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাই সুতির হালকা পোশাক পরা আরামদায়ক হবে। এছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

স্বাধীনতা দিবসে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় খাবারের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজন করা হয়। অনেক পরিবারে খিচুড়ি, ইলিশ মাছ বা বিভিন্ন ধরনের ভর্তা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারগুলোতে এই দিনে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো মিষ্টি ও তক্তি পাওয়া যায় যা উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়।

সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত। এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; এতে সাতটি জোড়া দেয়াল রয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সাতটি প্রধান পর্যায়কে (১৯৫২ থেকে ১৯৭১) নির্দেশ করে। স্বাধীনতা দিবসে প্রধান অনুষ্ঠানটি এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনার্থীদের জন্য এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি ত্যাগের প্রতীক। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য নেই, তবে বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় নিরাপত্তা তল্লাশি ও কড়াকড়ি থাকে।

Historical Dates

Independence Day dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Wednesday March 26, 2025
2024 Tuesday March 26, 2024
2023 Sunday March 26, 2023
2022 Saturday March 26, 2022
2021 Friday March 26, 2021
2020 Thursday March 26, 2020
2019 Tuesday March 26, 2019
2018 Monday March 26, 2018
2017 Sunday March 26, 2017
2016 Saturday March 26, 2016
2015 Thursday March 26, 2015
2014 Wednesday March 26, 2014
2013 Tuesday March 26, 2013
2012 Monday March 26, 2012
2011 Saturday March 26, 2011
2010 Friday March 26, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.