Ash Wednesday

Bangladesh • February 18, 2026 • Wednesday

46
Days
14
Hours
16
Mins
58
Secs
until Ash Wednesday
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Ash Wednesday
Country
Bangladesh
Date
February 18, 2026
Day of Week
Wednesday
Status
46 days away
About this Holiday
Ash Wednesday marks the first day of Lent in western Christian churches.

About Ash Wednesday

Also known as: ভস্ম বুধবার

ভস্ম বুধবার বা অ্যাশ ওয়েডনেসডে: বাংলাদেশে খ্রিস্টধর্মীয় চেতনার এক অনন্য সূচনা

ভস্ম বুধবার বা অ্যাশ ওয়েডনেসডে হলো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দিন। এটি মূলত 'লেন্ট' (Lent) বা মহান উপবাসের চল্লিশ দিনের পবিত্র সময়ের সূচনা করে। বাংলাদেশে বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, তবে এদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির আবহে খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে এই দিনটি পালন করে। এটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের একটি দীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।

এই বিশেষ দিনটি যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের উৎসব অর্থাৎ 'ইস্টার সানডে' বা পুনরুত্থান পরবের ৪৬ দিন আগে পালিত হয় (রবিবারগুলো বাদ দিয়ে)। ভস্ম বুধবারের মূল সুর হলো মানুষের নশ্বরতা এবং ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসার আহ্বান। এদিন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় যেখানে যাজক বা ফাদার ভক্তদের কপালে ছাই দিয়ে ক্রুশ চিহ্ন এঁকে দেন এবং বলেন, "তুমি ধূলি এবং ধূলিতেই ফিরে যাবে।" এই বাক্যটি মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের গির্জাগুলোতে এই দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ থাকে।

বাংলাদেশে ভস্ম বুধবার পালনের ধরনটি মূলত প্রার্থনা এবং সংযম কেন্দ্রিক। এদিন খ্রিস্টানরা উপবাস পালন করেন এবং আমিষ জাতীয় খাবার পরিহার করেন। এটি যিশু খ্রিস্টের সেই চল্লিশ দিনের মরুপ্রান্তরের উপবাস ও প্রলোভন জয়ের স্মরণে পালন করা হয়। ঢাকার তেজগাঁও গির্জা, রমনা গির্জা কিংবা চাটমোহরের পুরনো গির্জাগুলোতে এদিন হাজার হাজার বিশ্বাসী সমবেত হন। এই দিনের বিশেষত্ব হলো এটি কোনো বাহ্যিক উৎসব নয়, বরং এটি অন্তরের নীরবতা এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ঈশ্বরের করুণা কামনার দিন।

2026 সালে ভস্ম বুধবার কখন?

২০২৬ সালে বাংলাদেশে ভস্ম বুধবার পালিত হবে নিম্নলিখিত সময়ে:

তারিখ: February 18, 2026 বার: Wednesday অবশিষ্ট সময়: এই পবিত্র দিনটি আসতে আর মাত্র 46 দিন বাকি।

ভস্ম বুধবারের তারিখটি প্রতি বছর পরিবর্তিত হয় কারণ এটি ইস্টার সানডের তারিখের ওপর নির্ভর করে। ইস্টার যেহেতু চান্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, তাই লেন্টের এই প্রথম দিনটিও জানুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শুরুর মধ্যে যেকোনো সময় হতে পারে। 2026 সালে এটি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের বসন্ত ঋতুর সূচনার সাথে মিলে যায়।

ভস্ম বুধবারের ইতিহাস ও উৎস

ভস্ম বুধবারের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। আদি খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সময় থেকেই পাপীদের অনুশোচনা এবং পুনর্মিলনের প্রতীক হিসেবে ছাই ব্যবহারের প্রচলন ছিল। বাইবেলে ছাই ব্যবহার করার কথা অনেক জায়গায় উল্লেখ আছে যা শোক, অনুশোচনা এবং নম্রতার প্রতীক। ওল্ড টেস্টামেন্টে আমরা দেখি রাজা ও ভাববাদীরা শোকের সময় বা ক্ষমা প্রার্থনার সময় গায়ে চট পরতেন এবং মাথায় ছাই মাখতেন।

এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে গির্জায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভস্ম বুধবারের প্রথা শুরু হয়। বর্তমানে এই দিনে যে ছাই ব্যবহার করা হয়, তা মূলত আগের বছরের 'পাম সানডে' বা খেজুর রবিবারে ব্যবহৃত খেজুর শাখাগুলো পুড়িয়ে তৈরি করা হয়। এটি একটি জীবনচক্রের প্রতীক—যে শাখাগুলো একসময় জয়ের উল্লাসে ব্যবহৃত হয়েছিল, আজ তা ছাই হয়ে মানুষের নশ্বরতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্যটি বহন করে আসছে, যা তাদের বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ভস্ম বুধবার পালনের রীতি ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৩ শতাংশ হলেও তাদের উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুসংগঠিত। ভস্ম বুধবারের দিনটি বাংলাদেশে যেভাবে পালিত হয় তার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. গির্জার বিশেষ লিটার্জি বা প্রার্থনা সভা

এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ মিসা বা উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মজীবী মানুষের সুবিধার্থে অনেক জায়গায় সন্ধ্যায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। প্রার্থনার প্রধান অংশ হলো 'ভস্ম লেপন'। যাজক পবিত্র জল দিয়ে ছাই আশীর্বাদ করেন এবং এরপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ভক্তদের কপালে সেই ছাই দিয়ে ক্রুশ চিহ্ন এঁকে দেন। এই সময় যাজক বাইবেলের পদ উচ্চারণ করেন যা ভক্তদের বিনয়ী হতে অনুপ্রাণিত করে।

২. উপবাস ও ত্যাগের সংকল্প

ভস্ম বুধবারের একটি প্রধান দিক হলো উপবাস। বাংলাদেশের ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট উভয় মণ্ডলীর সদস্যরাই এদিন উপবাস পালন করেন। অনেকে সারা দিন কিছু খান না, আবার অনেকে এক বেলা নিরামিষ আহার করেন। বিশেষ করে মাছ বা মাংস পরিহার করার একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বাংলাদেশে রয়েছে। ছোট শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা বাদে প্রায় সবাই এই সংযমের অংশ হন। এই ত্যাগের মাধ্যমে তারা যিশুর দুঃখভোগের সাথে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করেন।

৩. লেন্ট বা মহোপবাসের শুরু

ভস্ম বুধবার থেকেই লেন্ট বা চল্লিশ দিনের সাধনা শুরু হয়। এই সময়ে বাংলাদেশের খ্রিস্টান পরিবারগুলোতে বিনোদনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ে বা বড় কোনো উৎসব সাধারণত এই সময়ে আয়োজন করা হয় না। পরিবর্তে তারা দান-খয়রাত, বাইবেল পাঠ এবং জপমালা প্রার্থনায় বেশি সময় ব্যয় করেন। অনেক পরিবারে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো হয় যা ইস্টার বা পুনরুত্থান পরবের সময় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

৪. স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস

বাংলাদেশে ভস্ম বুধবারের খাবারে স্থানীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু এটি ত্যাগের দিন, তাই এদিন সাধারণত সাধারণ ভাত, ডাল এবং সবজি খাওয়া হয়। অনেক খ্রিস্টান পল্লীতে এদিন বিশেষ কোনো আড়ম্বর থাকে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনার মতো বড় শহরগুলোতে খ্রিস্টানরা অফিস-আদালতে যাওয়ার আগে বা পরে গির্জায় যান। কপালে ছাইয়ের চিহ্ন নিয়েই অনেকে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন, যা তাদের বিশ্বাসের এক সাহসী বহিঃপ্রকাশ।

২০২৬ সালের বিশেষ প্রেক্ষাপট: রমজান ও ভস্ম বুধবার

২০২৬ সালের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো যে, ভস্ম বুধবার (February 18, 2026) এবং মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ প্রায় একই সময়ে পড়ছে। বাংলাদেশ একটি বহু-ধর্মীয় দেশ হওয়ায় এই কাকতালীয় ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে খ্রিস্টানরা তাদের লেন্টের উপবাস শুরু করবেন, অন্যদিকে মুসলিম ভাই-বোনেরাও তাদের সিয়াম সাধনা শুরু করতে পারেন। এটি বাংলাদেশের রাজপথে এবং সমাজ জীবনে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করবে। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই তখন প্রার্থনা, ত্যাগ এবং আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করবেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

যদি আপনি 2026 সালে ভস্ম বুধবারের সময় বাংলাদেশে থাকেন বা বেড়াতে আসেন, তবে নিচের বিষয়গুলো আপনার কাজে লাগতে পারে:

গির্জার সময়সূচী: ঢাকার তেজগাঁওয়ের হলি রোজারি চার্চ বা রমনার সেন্ট মেরি'স ক্যাথেড্রালে ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায় মিসা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত সকাল ৭টা, সকাল ৯টা এবং বিকেল ৫টা বা ৬টায় বিশেষ প্রার্থনা থাকে। পোশাক ও আচরণ: গির্জায় প্রবেশের সময় মার্জিত পোশাক পরিধান করা জরুরি। যেহেতু এটি একটি শোকাবহ এবং গম্ভীর দিন, তাই উচ্চস্বরে কথা বলা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। অংশগ্রহণ: অ-খ্রিস্টান দর্শনার্থীরাও গির্জার প্রার্থনা দেখতে পারেন, তবে সাধারণত ভস্ম লেপন বা ছাই গ্রহণ কেবল খ্রিস্টানদের জন্যই নির্ধারিত থাকে। তবে গির্জার শান্ত পরিবেশ যে কারোর জন্যই আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বয়ে আনতে পারে। যাতায়াত: এটি কোনো সরকারি ছুটি না হওয়ায় রাস্তাঘাটে যানজট স্বাভাবিক থাকবে। গির্জার আশেপাশে ভিড় হতে পারে, তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো।

ভস্ম বুধবার কি বাংলাদেশে সরকারি ছুটি?

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ভস্ম বুধবার বাংলাদেশে কোনো সরকারি বা সাধারণ ছুটি নয়। এটি একটি ঐচ্ছিক বা ধর্মীয় পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অফিস ও ব্যাংক: সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যথারীতি খোলা থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিক নিয়মেই চলে। তবে অনেক খ্রিস্টান মিশনারি স্কুল এই দিনে আংশিক ছুটি বা শিক্ষার্থীদের গির্জায় যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ব্যবসা-বাণিজ্য: দোকানপাট, শপিং মল এবং বাজার স্বাভাবিকভাবে চলে। যাতায়াত ব্যবস্থায়ও কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেহেতু এটি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তাই এটি জাতীয় ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে খ্রিস্টান সরকারি কর্মচারীরা তাদের বিশেষ কোটা বা ঐচ্ছিক ছুটির আওতায় এই দিনে ছুটি নিতে পারেন।

উপসংহার

ভস্ম বুধবার বা অ্যাশ ওয়েডনেসডে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য কেবল একটি আচার নয়, এটি তাদের বিশ্বাসের গভীরতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। এটি মানুষকে শেখায় যে সম্পদ, ক্ষমতা বা জৌলুস চিরস্থায়ী নয়; দিনশেষে মানুষকে তার স্রষ্টার কাছেই ফিরে যেতে হবে। এই দিনটি ক্ষমাশীলতা এবং ত্যাগের শিক্ষা দেয়, যা বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিবেশে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

2026 সালের February 18, 2026 তারিখে যখন বাংলাদেশের গির্জাগুলোতে ঘণ্টার ধ্বনি বাজবে এবং হাজার হাজার মানুষ কপালে ছাইয়ের চিহ্ন নিয়ে প্রার্থনা করবে, তখন তা কেবল একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকেই নয়, বরং সমগ্র মানবতাকে নম্রতা এবং ভালোবাসার বার্তা দেবে। আপনি যদি এই সময়ে বাংলাদেশে থাকেন, তবে এই পবিত্র দিনের ভাবগাম্ভীর্য অনুভব করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। এটি বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ।

Frequently Asked Questions

Common questions about Ash Wednesday in Bangladesh

২০২৬ সালে বাংলাদেশে ভস্ম বুধবার Wednesday, February 18, 2026 তারিখে পালিত হবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে গণনা করলে এই বিশেষ দিনটি আসতে আর মাত্র 46 দিন বাকি রয়েছে। এটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন যা প্রতি বছর ইস্টার রবিবারের ৪৬ দিন আগে পালন করা হয়।

না, বাংলাদেশে ভস্ম বুধবার কোনো সরকারি সাধারণ ছুটি নয়। এটি একটি অনানুষ্ঠানিক ধর্মীয় পালন। এই দিনে ব্যাংক, স্কুল, সরকারি অফিস এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ (প্রায় ০.৩%) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং জাতীয় পর্যায়ে কোনো সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয় না।

ভস্ম বুধবার হলো ৪০ দিনের লেন্ট বা মহোপবাস কালের সূচনা। এটি অনুতাপ, প্রার্থনা এবং ত্যাগের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, ছাই মানুষের মরণশীলতা এবং অনুশোচনার প্রতীক। এই দিনে যাজকরা বিশ্বাসীদের কপালে ছাই দিয়ে ক্রুশ চিহ্ন এঁকে দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে মানুষ ধূলি থেকে এসেছে এবং ধূলিতেই ফিরে যাবে। এটি মূলত ইস্টার বা পুনরুত্থান পার্বন উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক একটি ধর্মীয় আধ্যাত্মিক যাত্রা।

বাংলাদেশের ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানরা সাধারণত গির্জায় বিশেষ প্রার্থনায় বা মিলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিনটি শুরু করেন। ঢাকার হলি রোজারি চার্চ বা চট্টগ্রামের খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে বিশেষ জমায়েত দেখা যায়। এই দিনে অনেক খ্রিস্টান উপবাস পালন করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো খাবার গ্রহণ করেন না। বিশেষ করে মাংস বর্জন করা এবং সাধারণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা এই দিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। অনেক সময় গির্জার হলরুমে লেন্টকালীন বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

এই দিনের প্রধান ঐতিহ্য হলো কপালে ছাইয়ের তিলক গ্রহণ করা। আগের বছরের পাম সানডে-তে ব্যবহৃত পাম পাতা পুড়িয়ে এই ছাই তৈরি করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে অনেকে এই দিন থেকে শুরু করে ইস্টারের আগের দিন পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ দিন বিভিন্ন ধরনের সংযম পালন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেকে একে 'পবিত্র উপবাসের ছাই' বা স্থানীয় ভাষায় ব্রত হিসেবে পালন করেন। এটি মূলত ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণের একটি প্রক্রিয়া।

২০২৬ সালে ভস্ম বুধবার একটি অনন্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে কারণ সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি পবিত্র রমজান মাসের শুরুর কাছাকাছি সময়ে পড়তে পারে। এর ফলে মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে একই সময়ে দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপবাস বা সংযমের পরিবেশ দেখা যেতে পারে। এছাড়া ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবসের মাত্র কয়েক দিন আগে এই দিনটি পড়ায় শহুরে এলাকায় যাতায়াত বা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যস্ততা থাকতে পারে।

পর্যটকদের জন্য এই দিনে বাংলাদেশে কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে যারা গির্জার প্রার্থনা দেখতে চান, তাদের শালীন পোশাক (লম্বা হাতা ও প্যান্ট) পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। গির্জার ভেতরে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অন্যদের কপালের ছাই স্পর্শ না করা বাঞ্ছনীয়। ঢাকার বড় গির্জাগুলোতে ইংরেজি ভাষায় প্রার্থনার ব্যবস্থা থাকে, তাই বিদেশিরা সেই সময়সূচী আগে থেকে জেনে নিতে পারেন। যেহেতু এটি কোনো সরকারি ছুটি নয়, তাই যানজট বা গণপরিবহন স্বাভাবিক থাকবে।

খ্রিস্টান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সের সুস্থ সবল ব্যক্তিদের জন্য এই দিনে উপবাস বা সংযম পালন করা ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা হয়। তবে এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যারা অসুস্থ বা শিশু, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য। মূলত আত্মশুদ্ধি এবং যিশু খ্রিস্টের দুঃখভোগের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের খ্রিস্টান সমাজ স্বেচ্ছায় এই উপবাস পালন করে থাকে।

Historical Dates

Ash Wednesday dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Wednesday March 5, 2025
2024 Wednesday February 14, 2024
2023 Wednesday February 22, 2023
2022 Wednesday March 2, 2022
2021 Wednesday February 17, 2021
2020 Wednesday February 26, 2020
2019 Wednesday March 6, 2019
2018 Wednesday February 14, 2018
2017 Wednesday March 1, 2017
2016 Wednesday February 10, 2016
2015 Wednesday February 18, 2015
2014 Wednesday March 5, 2014
2013 Wednesday February 13, 2013
2012 Wednesday February 22, 2012
2011 Wednesday March 9, 2011
2010 Wednesday February 17, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.