Holiday Details
- Holiday Name
- Language Martyrs' Day
- Country
- Bangladesh
- Date
- February 21, 2026
- Day of Week
- Saturday
- Status
- 49 days away
- Weekend
- Falls on weekend
- About this Holiday
- Language Martyrs' Day is a government holiday in Bangladesh
Bangladesh • February 21, 2026 • Saturday
Also known as: শহীদ দিবস
একুশে ফেব্রুয়ারি বা শহীদ দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগঘন একটি দিন। এটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদাকে রক্ষা করতে গিয়ে ঢাকার রাজপথে অকাতরে প্রাণ দিয়েছিলেন একদল তরুণ। তাদের এই আত্মত্যাগ কেবল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতিই এনে দেয়নি, বরং রোপণ করেছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ। এই দিনটি এখন কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আজ সারা বিশ্বে সকল মানুষের মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
শহীদ দিবসের মূল সুর হলো শোক এবং গর্বের এক অনন্য মিশ্রণ। এটি একটি গম্ভীর স্মারক দিবস, যেখানে উৎসবের চেয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আত্মোপলব্ধি বেশি প্রাধান্য পায়। একুশের প্রথম প্রহরে নগ্নপদ যাত্রা, প্রভাতফেরি এবং শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের বীর সন্তানদের স্মরণ করে। "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি" — এই কালজয়ী গানের সুর প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক গভীর দেশপ্রেমের সঞ্চার করে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বেঁচে থাকার ভিত্তি।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই মাথা নত না করার শিক্ষা। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নিজের অধিকার আদায়ে অবিচল থাকার সংকল্প। এই দিনটি ঘিরে বাংলাদেশে এক বিশাল সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটে। মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা, বিভিন্ন আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা নতুন গতি পায়। এটি এমন এক দিন যখন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানায়, যা আমাদের জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ।
2026 সালে শহীদ দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। নিচে এই বছরের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হলো:
তারিখ: February 21, 2026 বার: Saturday অবশিষ্ট সময়: বর্তমান সময় থেকে এই বিশেষ দিনটি আসতে আর মাত্র 49 দিন বাকি।
শহীদ দিবস বা ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি নির্দিষ্ট তারিখের ভিত্তিতে পালিত হয়। প্রতি বছর গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিই বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন এবং জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এটি কোনো পরিবর্তনশীল তারিখ নয়, বরং ইতিহাসের সেই রক্তঝরা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই নির্দিষ্ট দিনে এটি পালিত হয়।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন 'পূর্ব পাকিস্তান' নামে পাকিস্তানের একটি অংশ ছিল। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এই সংঘাতের মূলে ছিল ভাষা।
পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা (তৎকালীন পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি)। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" এই ঘোষণা বাঙালি সমাজকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ছাত্র, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষ এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। তারা দাবি তোলেন যে, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করতে হবে।
১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে যখন এই বিতর্ক আবারও তুঙ্গে ওঠে, তখন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু অকুতোভয় ছাত্ররা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, রফিক উদ্দিন আহমদ, আব্দুস সালাম এবং শফিউর রহমানসহ নাম না জানা আরও অনেকে। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে এবং ভাষা আন্দোলন একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মুখে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পারে যে, তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রয়োজন। ভাষা আন্দোলনের এই চেতনা পরবর্তীতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।
শহীদ দিবস পালনের রীতি বাংলাদেশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। দিনটির শুরু হয় মধ্যরাতে এবং শেষ হয় নানা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে।
১. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন: একুশে ফেব্রুয়ারির মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ২০শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে) রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। এরপর কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের জন্য মিনারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাজার হাজার মানুষ ফুল হাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২. প্রভাতফেরি: ভোরবেলা থেকে শুরু হয় 'প্রভাতফেরি'। মানুষ খালি পায়ে, সাদা-কালো পোশাক পরে ধীর পদক্ষেপে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়। সবার মুখে থাকে সেই চিরচেনা গান— "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..."। এই নগ্নপদ যাত্রা বিনম্র শ্রদ্ধা এবং শোকের প্রতীক।
৩. অমর একুশে বইমেলা: ফেব্রুয়ারি মাস মানেই বাংলাদেশে বইমেলার মাস। বাংলা একাডেমি চত্বর এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী এই মেলা চলে। ২১শে ফেব্রুয়ারি বইমেলায় উপচে পড়া ভিড় থাকে। এটি কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং এটি বাঙালির মেধা ও মননের এক মিলনমেলা।
৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেমিনার: দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং পাড়া-মহল্লায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় (যদি স্থায়ী মিনার না থাকে)। সেখানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
৫. কালো ব্যাজ ও সাজসজ্জা: এই দিনে শোকের প্রতীক হিসেবে মানুষ পোশাকে কালো ব্যাজ ধারণ করে। রাস্তাঘাটে আলপনা আঁকা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে বর্ণমালা ও দেশাত্মবোধক স্লোগান সংবলিত ফেস্টুন লাগানো হয়। বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো অত্যন্ত মর্যাদার সাথে এই দিনটি পালন করে।
আপনি যদি ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অবস্থান করেন বা এই উৎসবে অংশ নিতে চান, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
গম্ভীর পরিবেশ বজায় রাখা: মনে রাখবেন এটি কোনো উৎসব বা আনন্দ উদযাপনের দিন নয়, এটি একটি শোক দিবস। তাই উচ্চস্বরে কথা বলা, হইহুল্লোড় করা বা স্মৃতিস্তম্ভের পবিত্রতা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। শহীদ মিনারে ওঠার সময় জুতা খুলে রাখা বাধ্যতামূলক। পোশাক পরিচ্ছদ: স্থানীয়রা সাধারণত সাদা এবং কালো রঙের পোশাক পরেন। পুরুষরা পায়জামা-পাঞ্জাবি এবং মহিলারা শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। আপনি যদি অংশগ্রহণ করতে চান, তবে মার্জিত এবং শোকের সাথে মানানসই পোশাক পরা উচিত। যাতায়াত ও ভিড়: বিশেষ করে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক ভিড় থাকে। ২০ তারিখ রাত থেকে ২১ তারিখ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অনেক রাস্তা বন্ধ থাকে বা ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হয়। তাই যাতায়াতের জন্য আগেভাগেই পরিকল্পনা করুন এবং পায়ে হাঁটার মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। নিরাপত্তা: এই দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি থাকে। আর্চওয়ে এবং তল্লাশির মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে হয়। কোনো বড় ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু সাথে না রাখাই ভালো। অংশগ্রহণ: বিদেশি পর্যটক হিসেবে আপনি চাইলে শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিতে পারেন। এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার একটি অনন্য সুযোগ। তবে ছবি তোলার ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বজায় রাখুন; মানুষের শোক বা শ্রদ্ধার মুহূর্তগুলোকে বিরক্ত করবেন না।
২১শে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাও এই দিনে গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে প্রায় ৪০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি আছে (যেমন: চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল ইত্যাদি)। সরকারের পক্ষ থেকে এখন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একুশের অনুষ্ঠানে এই বৈচিত্র্যময় ভাষাগুলোর প্রদর্শনী ও আলোচনা এখন নিয়মিত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি 'সকলের ভাষা রক্ষার' যে বৈশ্বিক অঙ্গীকার, তাকে আরও শক্তিশালী করে।
একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি সাধারণ সরকারি ছুটি। এই দিনে যা যা প্রত্যাশা করতে পারেন:
বন্ধ থাকবে: সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, শেয়ার বাজার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) বন্ধ থাকে। কল-কারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধারণত বন্ধ থাকে। পরিবহন: গণপরিবহন চলাচল করে তবে শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রাস্তা বন্ধ থাকায় যানজট বা রুট পরিবর্তন হতে পারে। দূরপাল্লার বাস বা ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও টিকিট পেতে আগেভাগেই বুকিং দেওয়া ভালো।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাঙালির হৃদয়ের এক অবিনাশী স্পন্দন। এটি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজের ভাষার জন্য জীবন দিতে হয় এবং কীভাবে একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। ১৯৫২ সালের সেই আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত, যা প্রতিটি মানুষকে তার নিজের মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে এবং সম্মান করতে উৎসাহিত করে। 2026 সালের February 21, 2026 তারিখে যখন আমরা আবার এই দিনটি পালন করব, তখন আমাদের শপথ হওয়া উচিত ভাষা ও সংস্কৃতির এই উত্তরাধিকারকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং সকল ভাষার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
বাঙালি জাতির এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস কেবল রক্তের অক্ষরে লেখা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়— "মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।"
Common questions about Language Martyrs' Day in Bangladesh
২০২৬ সালে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস February 21, 2026 তারিখে পালিত হবে। এই বিশেষ দিনটি Saturday দিনে পড়েছে। বর্তমান সময় থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসটি আসতে আর মাত্র 49 দিন বাকি রয়েছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে থাকে।
হ্যাঁ, শহীদ দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি সাধারণ সরকারি ছুটি। এই দিনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকে। এটি একটি জাতীয় শোকের দিন হওয়ায় সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। মানুষ এই দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে এবং দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাধারণ কর্মকাণ্ড সীমিত থাকে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। এই আত্মত্যাগের ফলে ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় এবং এটিই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
শহীদ দিবসের মূল আয়োজন শুরু হয় একুশের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ মধ্যরাতে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সাধারণ মানুষ খালি পায়ে হেঁটে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি গেয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
শহীদ মিনার হলো ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত, যেখানে ১৯৫২ সালে গুলি চালানো হয়েছিল। এটি বাঙালির জাতীয় চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের প্রতীক। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সারা বাংলাদেশের মানুষ নিজ নিজ এলাকায় নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। বিশ্বের অনেক দেশেও এখন শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি স্থাপিত হয়েছে।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের এই মহান আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এটি বিশ্বের সকল মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষা রক্ষা ও চর্চার অধিকারকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের এই সংগ্রাম এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।
শহীদ দিবস একটি শোকের এবং গম্ভীর দিন, তাই পর্যটকদের উচিত উৎসবমুখর আচরণ পরিহার করা। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর সময় জুতো খুলে খালি পায়ে যাওয়া এবং মার্জিত পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। উচ্চস্বরে কথা বলা বা হইচই করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রচুর ভিড় থাকে, তাই সেখানে যেতে চাইলে আগেভাগে পরিকল্পনা করা উচিত। স্থানীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে শান্তভাবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হওয়া যায়।
শহীদ দিবসে সাধারণত শোকের প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। অনেক মানুষ সাদা-কালো রঙের পোশাক পরিধান করেন, যা শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। এই দিনে কোনো উৎসবমুখর খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ রীতি নেই, বরং দিনটি আত্মিক প্রতিফলন এবং দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দেয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে এবং রেডিও-টেলিভিশনে ভাষা আন্দোলনের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।
Language Martyrs' Day dates in Bangladesh from 2010 to 2025
| Year | Day of Week | Date |
|---|---|---|
| 2025 | Friday | February 21, 2025 |
| 2024 | Wednesday | February 21, 2024 |
| 2023 | Tuesday | February 21, 2023 |
| 2022 | Monday | February 21, 2022 |
| 2021 | Sunday | February 21, 2021 |
| 2020 | Friday | February 21, 2020 |
| 2019 | Thursday | February 21, 2019 |
| 2018 | Wednesday | February 21, 2018 |
| 2017 | Tuesday | February 21, 2017 |
| 2016 | Sunday | February 21, 2016 |
| 2015 | Saturday | February 21, 2015 |
| 2014 | Friday | February 21, 2014 |
| 2013 | Thursday | February 21, 2013 |
| 2012 | Tuesday | February 21, 2012 |
| 2011 | Monday | February 21, 2011 |
| 2010 | Sunday | February 21, 2010 |
Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.