Eid ul-Fitr

Bangladesh • March 20, 2026 • Friday

76
Days
14
Hours
15
Mins
01
Secs
until Eid ul-Fitr
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Eid ul-Fitr
Country
Bangladesh
Date
March 20, 2026
Day of Week
Friday
Status
76 days away
About this Holiday
Eid al-Fitr is a holiday to mark the end of the Islamic month of Ramadan, during which Muslims fast during the hours of daylight.

About Eid ul-Fitr

Also known as: ঈদুল ফিতর

ঈদুল ফিতর: বাংলাদেশের প্রাণের উৎসব ও আধ্যাত্মিক মিলনের মহিমা

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য প্রতিফলন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ যখন আকাশে উঁকি দেয়, তখন বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। "ঈদ" শব্দের অর্থ আনন্দ আর "ফিতর" শব্দের অর্থ রোজা ভাঙা। অর্থাৎ, ঈদুল ফিতর হলো দীর্ঘ এক মাস সংযম ও ত্যাগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আনন্দ। এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পুরস্কার।

বাংলাদেশে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন এক দিন যখন ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরকে বুকে টেনে নেয়। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর, প্রতিটি জনপদে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নাড়ির টানে শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার যে হিড়িক পড়ে, তা বিশ্বের আর কোথাও খুব একটা দেখা যায় না। এই শেকড়ের টানে ফিরে আসা এবং পরিবারের সবার সাথে মিলিত হওয়াটাই বাংলাদেশের ঈদুল ফিতরের মূল সৌন্দর্য।

এই উৎসবের আধ্যাত্মিক দিকটিও অত্যন্ত গভীর। রমজান মাসে একজন মুসলিম তার নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং জাগতিক মোহ বিসর্জন দিয়ে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের যে চেষ্টা চালানো হয়, ঈদুল ফিতর হলো সেই চেষ্টার সফল সমাপ্তি। এটি আত্মশুদ্ধির উৎসব। এদিন সকালে নতুন পোশাক পরে যখন দেশের কোটি কোটি মানুষ ঈদগাহে সমবেত হয়, তখন সেখানে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্বের দৃশ্য। একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা এবং কুশল বিনিময় করার মাধ্যমে যে সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়, তা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।

2026 সালে ঈদুল ফিতর কবে?

বাংলাদেশে 2026 সালের ঈদুল ফিতর উদযাপনের পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

ঈদের দিন: Friday তারিখ: March 20, 2026 বাকি সময়: আজ থেকে এই উৎসবের আর মাত্র 76 দিন বাকি আছে।

তারিখ কি নির্দিষ্ট? না, ঈদুল ফিতরের তারিখটি নির্দিষ্ট নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে হিজরি ক্যালেন্ডার এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়, তবে বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রমজানের ২৯তম দিনে বৈঠকে বসে এবং দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেছে কি না তার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। যদি ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন ঈদ হয়। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হয় এবং তার পরের দিন ঈদ উদযাপিত হয়। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদুল ফিতরের ইতিহাস ও পটভূমি

ঈদুল ফিতরের সূচনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। ইসলামের ইতিহাসে হিজরি দ্বিতীয় সনে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুটি বিশেষ দিনে উৎসব পালন করে। তিনি তখন মুসলমানদের জন্য পবিত্র ও অর্থবহ দুটি উৎসবের কথা ঘোষণা করেন—একটি ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বলা হয়, বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের পর প্রথম ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছিল। সেই থেকে এই দিনটি মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে এই উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মুঘল আমল পর্যন্ত ঈদুল ফিতর পালনের ধরণ বিবর্তিত হয়েছে। মুঘল আমলে ঢাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদ মিছিল বের করা হতো, যা আজও পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে টিকে আছে। সময়ের সাথে সাথে এই ধর্মীয় উৎসবটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সাথে মিশে গিয়ে এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে।

বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি ও 'চাঁদ রাত'

বাংলাদেশে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই। কেনাকাটা করা এই প্রস্তুতির একটি বড় অংশ। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নতুন জামাকাপড়, জুতো এবং প্রসাধনী কেনার জন্য মানুষ এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটে বেড়ায়। বিশেষ করে দর্জিবাড়িতে নতুন পোশাক বানানোর যে ব্যস্ততা, তা ঈদের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে ঈদের আসল আনন্দ শুরু হয় 'চাঁদ রাতে'। রমজানের শেষ দিন সন্ধ্যায় যখন পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের সরু চাঁদ দেখা যায়, তখন চারদিকে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় মাইকে বেজে ওঠে কাজী নজরুল ইসলামের সেই কালজয়ী গান— "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ..."। চাঁদ রাতে তরুণীরা হাতে মেহেদি লাগায়, আর ছেলেরা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে। শহরগুলোতে আতশবাজি ও আলোকসজ্জা দেখা যায়। ঢাকার নিউ মার্কেট বা চকবাজারের মতো জায়গাগুলোতে চাঁদ রাতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এই রাতটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন এবং উৎসবমুখর।

ঈদের দিনের রীতিনীতি ও উদযাপন

ঈদুল ফিতরের দিনটি বাংলাদেশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ঐতিহ্যবাহী কিছু নিয়মের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়:

১. ভোরবেলার প্রস্তুতি

ঈদের দিন সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা একটি প্রচলিত নিয়ম। এদিন সকালে গোসল করে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক (সাধারণত পাঞ্জাবি ও টুপি) পরা হয়। সুগন্ধি বা আতর মাখা এবং ঈদগাহে যাওয়ার আগে মিষ্টি কিছু (যেমন খেজুর বা পায়েস) খাওয়া সুন্নাত।

২. ঈদের নামাজ (সালাতুল ঈদ)

ঈদের দিনের প্রধান আকর্ষণ হলো ঈদের জামাত। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে এবং শহরের অলিতে-গলিতে ঈদগাহ ময়দানে বা বড় মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার 'জাতীয় ঈদগাহ' এবং কিশোরগঞ্জের 'শোলাকিয়া ঈদগাহ' হলো দেশের বৃহত্তম জামাতগুলোর অন্যতম। শোলাকিয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর খুতবা পাঠ করা হয় যেখানে শান্তি, সম্প্রীতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন, যা ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

৩. সেমাই ও ভোজ উৎসব

নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পর শুরু হয় খাওয়ার পালা। বাংলাদেশের ঈদে 'সেমাই' হলো অপরিহার্য। দুধ সেমাই, লাচ্ছা সেমাই এবং জর্দা সেমাই ছাড়া ঈদ অপূর্ণ থেকে যায়। এছাড়া দুপুরের খাবারে বিরিয়ানি, পোলাও, খাসির মাংস, গরুর রেজালা এবং ফিরনি বা চাটনি পরিবেশন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খাবার পাঠানো বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।

৪. সালামি বা এদি (Eidi)

শিশুদের জন্য ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো 'সালামি'। বড়দের সালাম করে ছোটরা নগদ টাকা উপহার পায়, যাকে 'এদি' বা 'সালামি' বলা হয়। এটি শিশুদের মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগিতামূলক আনন্দের সৃষ্টি করে—কে কত বেশি সালামি পেল!

৫. সামাজিক মিলনমেলা ও ভ্রমণ

ঈদের দিন বিকেলে মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়াও বর্তমান সময়ের একটি অংশ। অনেকে ঢাকার হাতিরঝিল, জাতীয় চিড়িয়াখানা বা ফ্যান্টাসি কিংডমের মতো জায়গায় ভিড় করেন। গ্রামীণ এলাকায় মেলা বসে, যেখানে নাগরদোলা, মাটির পুতুল এবং মিষ্টির দোকান ছোটদের আকৃষ্ট করে।

ফিতরা ও দান-সদকা: মানবতার শিক্ষা

ঈদুল ফিতরের একটি বাধ্যতামূলক অংশ হলো 'যাকাতুল ফিতর' বা ফিতরা। ঈদের নামাজের আগেই এটি অভাবী ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে সমাজের দরিদ্র মানুষগুলোও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে এবং ভালো খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে পারে। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ফিতরার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দেয়। এই দান কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এটি সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষ তার সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা এবং যাকাত প্রদান করে দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটায়।

পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

যদি আপনি 2026 সালের ঈদুল ফিতরের সময় বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা করেন, তবে নিচের বিষয়গুলো আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে:

পোশাক ও শালীনতা: বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। ঈদের দিন নামাজের স্থানে বা জনসমক্ষে চলাফেরা করার সময় মার্জিত পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। পুরুষরা চাইলে পাঞ্জাবি পরে স্থানীয়দের সাথে উৎসবে যোগ দিতে পারেন। পরিবহন ব্যবস্থা: ঈদের আগে ও পরে ৩-৪ দিন বাংলাদেশের গণপরিবহন (বাস, ট্রেন, লঞ্চ) অত্যন্ত ভিড় থাকে। ঢাকা ছাড়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই টিকিট বুক করতে হয়। তবে ঈদের দিন শহরের রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা থাকে। দোকানপাট ও বাজার: ঈদের দিন এবং তার পরের দিন বেশিরভাগ বড় শপিং মল এবং দোকান বন্ধ থাকে। তবে মিষ্টির দোকান এবং বড় রেস্তোরাঁগুলো খোলা থাকতে পারে। নিরাপত্তা: বড় জমায়েত ও ঈদগাহগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দর্শনার্থী হিসেবে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং পকেটমার থেকে সাবধান থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। আবহাওয়া: মার্চ মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। দিনের তাপমাত্রা ৩০° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। হালকা সুতির পোশাক পরা আরামদায়ক হবে।

ঈদুল ফিতর কি সাধারণ ছুটি?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর একটি প্রধান জাতীয় ও সরকারি ছুটি। সাধারণত ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের দিন—এই তিন দিন সাধারণ ছুটি থাকে। তবে যদি এই ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্রবার ও শনিবার) সাথে মিলে যায়, তবে অনেক সময় সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি দীর্ঘায়িত করে।

2026 সালে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, এটি একটি দীর্ঘ সপ্তাহান্ত বা লং উইকেন্ডে পরিণত হতে পারে। এই সময়ে সব সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, স্কুল এবং কলেজ বন্ধ থাকে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হয়।

উপসংহার: সম্প্রীতির বন্ধনে ঈদ

বাংলাদেশের ঈদুল ফিতর কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি প্রতিটি বাঙালির হৃদস্পন্দন। এটি এমন এক সময় যখন ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট ভুলে মানুষ সামষ্টিক আনন্দে মেতে ওঠে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে কৃত্রিম দূরত্ব, তা ঘুচিয়ে দেয় এই ঈদ। ধনী তার আভিজাত্য ভুলে গরিবের সাথে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে, যা ইসলামের সাম্যের বাণীর বাস্তব প্রতিফলন।

2026 সালের ঈদুল ফিতর আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। রমজানের শিক্ষা যেন আমাদের সারা বছরের পথচলায় পাথেয় হয়ে থাকে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে যেন ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসার পরশ।

অগ্রিম ঈদ মোবারক!

Frequently Asked Questions

Common questions about Eid ul-Fitr in Bangladesh

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আগামী March 20, 2026 তারিখে পালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি Friday দিনে উদযাপিত হবে। বর্তমান সময় থেকে এই উৎসব আসতে আর মাত্র 76 দিন বাকি আছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই তারিখটি হিজরি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত করা হবে।

হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে একটি প্রধান জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন। ২০২৬ সালে এই উপলক্ষে সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, স্কুল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সাধারণত ঈদের মূল দিনের আগে এবং পরে মিলিয়ে ৩ থেকে ৫ দিনের একটি দীর্ঘ ছুটি থাকে, যা পরিবার-পরিজনের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যান।

ঈদুল ফিতর অর্থ হলো 'রোজা ভাঙার উৎসব'। এটি দীর্ঘ এক মাস রমজানের আত্মশুদ্ধি ও সিয়াম সাধনার সমাপ্তি চিহ্নিত করে। ঐতিহাসিকভাবে, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বদরের যুদ্ধে বিজয়ের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীরা প্রথম এই উৎসব পালন করেন। বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে এটি আধ্যাত্মিক অর্জন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার একটি মহান দিন। এক মাস সংযমের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাই এই দিনের মূল লক্ষ্য।

ঈদের দিনটি শুরু হয় খুব ভোরে গোসল করে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরিধানের মাধ্যমে। সকালে মিষ্টি জাতীয় খাবার, বিশেষ করে সেমাই বা খেজুর খেয়ে পুরুষরা ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে যান। নামাজের আগে 'জাকাতুল ফিতর' বা ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক, যাতে দরিদ্র মানুষরাও এই আনন্দ উদযাপনে শরিক হতে পারে। নামাজ শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা এবং সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে সৌহার্দ্য প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশে ঈদের উৎসব মানেই খাবারের ধুম। মিষ্টি খাবারের মধ্যে দুধ-সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, জর্দা এবং ফিরনি সবচেয়ে জনপ্রিয়। দুপুরের খাবারে সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি, গরুর মাংসের কারি, মুরগির রোস্ট এবং নানা পদের কাবাব পরিবেশন করা হয়। এই দিনে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া এবং মেহমানদের আপ্যায়ন করা বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঈদের নামাজ সাধারণত বড় খোলা ময়দানে পড়া হয় যাকে 'ঈদগাহ' বলা হয়। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া বা ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সাম্যের প্রতীক। নামাজের পর খুতবা পাঠ করা হয় যেখানে শান্তি ও মানবতার জন্য দোয়া করা হয়। এই গণজমায়েত মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি করে এবং ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে।

রমজানের শেষ সন্ধ্যায় যখন শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা যায়, সেই রাতটিকে বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বলা হয়। এই রাতে শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে এবং মানুষ কেনাকাটা ও মেহেদি পরতে ব্যস্ত থাকে। ঈদের দিন বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের দেওয়া নগদ অর্থ উপহারকে 'সালামি' বা 'ঈদি' বলা হয়। এটি শিশুদের জন্য ঈদের অন্যতম বড় আকর্ষণ এবং আনন্দের উৎস।

ঈদের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে মনে রাখা উচিত যে, এই সময় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকে, তাই যাতায়াতের টিকিট আগেভাগেই বুক করা উচিত। ঈদের দিন দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ আংশিক বন্ধ থাকতে পারে। তবে কেউ দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করা এবং শালীন পোশাক পরে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া প্রশংসনীয়। নামাজের সময় ঈদগাহে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।

Historical Dates

Eid ul-Fitr dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Monday March 31, 2025
2024 Wednesday April 10, 2024
2023 Saturday April 22, 2023
2022 Tuesday May 3, 2022
2021 Friday May 14, 2021
2020 Monday May 25, 2020
2019 Wednesday June 5, 2019
2018 Friday June 15, 2018
2017 Monday June 26, 2017
2016 Wednesday July 6, 2016
2015 Saturday July 18, 2015
2014 Monday July 28, 2014
2013 Thursday August 8, 2013
2012 Sunday August 19, 2012
2011 Wednesday August 31, 2011
2010 Friday September 10, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.