Holiday Details
- Holiday Name
- National Flag Day
- Country
- Bangladesh
- Date
- March 2, 2026
- Day of Week
- Monday
- Status
- 58 days away
- About this Holiday
- National Flag Day is a observance in Bangladesh
Bangladesh • March 2, 2026 • Monday
Also known as: জাতীয় পতাকা দিবস
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ২রা মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রথম দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের এক ঐতিহাসিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো উত্তোলিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা। সেই থেকে প্রতি বছর ২রা মার্চ বাংলাদেশে 'জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা, যখন বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং নিজেদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার সাহস দেখিয়েছিল।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস বাংলাদেশের মানুষের কাছে দেশপ্রেম এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক শক্তিশালী প্রতীক। এটি সেই মুহূর্তের স্মারক যখন ছাত্র-জনতা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছিল যে, তারা আর পাকিস্তানের চাঁদ-তারা খচিত পতাকার নিচে থাকতে রাজি নয়। এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা এবং পতাকার মর্যাদা রক্ষা করার শপথ পুনরুজ্জীবিত করা। এটি এমন একটি দিন যা আমাদের জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করে এবং আমাদের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই দিবসটির বিশেষত্ব হলো এর ত্যাগের মহিমা এবং সাহসিকতা। তৎকালীন ছাত্রনেতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার চোখের সামনে বাংলাদেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এটি ছিল সরাসরি বিদ্রোহের ঘোষণা। সেই সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে সোনালী মানচিত্রখচিত পতাকাটি ছিল সাত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন। আজ যখন আমরা স্বাধীন দেশের আকাশে আমাদের প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা উড়তে দেখি, তখন ২রা মার্চের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিই আমাদের হৃদয়ে গর্বের সঞ্চার করে।
২০২৬ সালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত হবে নিম্নলিখিত সূচি অনুযায়ী:
তারিখ: March 2, 2026 বার: Monday বাকি সময়: এই গৌরবময় দিনটি আসতে আর মাত্র 58 দিন বাকি।
বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে অর্থাৎ ২রা মার্চ পালিত হয়। এটি কোনো পরিবর্তনশীল তারিখ নয়, বরং ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর একই দিনে পালিত হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ মাসে। তখন সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন চলছে। ১লা মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে বাংলার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সেই সমাবেশে তৎকালীন ছাত্রনেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকাটি ছিল বর্তমান পতাকার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত এবং সেই বৃত্তের ভেতরে ছিল সোনালী রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। এই পতাকার নকশাটি তৈরি করেছিলেন একদল ছাত্রনেতা ও কর্মী, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ এবং আবদুর রাজ্জাক। পতাকার প্রাথমিক নকশাটি তৈরি করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নম্বর রুমে। শিবনারায়ণ দাশ সেই মানচিত্রটি পতাকার লাল বৃত্তের মাঝে এঁকেছিলেন।
৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সমাবেশেও এই পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ২৩শে মার্চ 'প্রতিরোধ দিবসে' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি পতাকার মাঝখান থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং ১৭ই জানুয়ারি বর্তমান নকশাটি সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়। কামরুল হাসান পতাকার বর্তমান রূপটি চূড়ান্ত করেন।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কেবল একটি কাপড়ের টুকরো নয়, এর প্রতিটি রঙ এবং আকৃতির গভীর অর্থ রয়েছে।
১. সবুজ রঙ: পতাকার গাঢ় সবুজ রঙ বাংলাদেশের চিরসবুজ প্রকৃতি, শ্যামল ভূমি এবং তারুণ্যের প্রতীক। এটি বাংলার উর্বর ভূমি এবং প্রকৃতির সজীবতাকে তুলে ধরে। ২. লাল বৃত্ত: সবুজের মাঝে টকটকে লাল বৃত্তটি উদীয়মান সূর্যের প্রতীক। এটি নতুন একটি জাতির উদয়কে নির্দেশ করে। একই সাথে এই লাল রঙ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তে রাঙানো এই সূর্য আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। ৩. অনুপাত: জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্যের অনুপাত হলো ১০:৬। লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। বৃত্তটি পতাকার ঠিক মাঝখানে নয়, বরং কিছুটা বাম দিকে (দণ্ড বা হোইস্টের দিকে) সরানো থাকে, যাতে উড়ন্ত অবস্থায় এটি মাঝখানে মনে হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস বাংলাদেশে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য এবং দেশপ্রেমের সাথে পালন করা হয়। যদিও এটি সাধারণ ছুটির দিন নয়, তবুও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে, যেখানে প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল, সেখানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা ও সেমিনার: বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে। তৎকালীন ছাত্রনেতারা এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্মৃতিকথা তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য থাকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নাটকের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনাকে তুলে ধরা হয়। স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মিছিল ও র্যালি: রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। সাধারণ মানুষ হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এই র্যালিতে অংশ নেয়, যা এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা করে। মিডিয়া কভারেজ: সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ও আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।
আপনি যদি ২রা মার্চ বাংলাদেশে অবস্থান করেন, তবে এই ঐতিহাসিক দিনের আমেজ উপভোগ করার জন্য কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো:
১. কোথায় যাবেন: এই দিনের মূল আমেজ পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশেষ করে কলা ভবন এবং অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনেক অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া জাতীয় জাদুঘর এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাতেও ভ্রমণের মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন। ২. পোশাক-আশাক: এটি একটি দেশপ্রেমমূলক এবং কিছুটা গাম্ভীর্যপূর্ণ দিন। তাই মার্জিত পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। অনেকে এই দিনে পতাকার রঙের সাথে মিলিয়ে লাল-সবুজের পোশাক পরিধান করেন, আপনিও চাইলে তা করতে পারেন। ৩. যাতায়াত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অনুষ্ঠানের কারণে কিছুটা যানজট হতে পারে। তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো। তবে অফিস-আদালত খোলা থাকায় গণপরিবহন স্বাভাবিক থাকে। ৪. আচরণ: এই দিনটি বাঙালির আবেগ ও গর্বের সাথে জড়িত। তাই জাতীয় পতাকা বা মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ৫. আবহাওয়া: মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে। তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, যা বাইরে ঘুরে দেখার জন্য খুবই উপযুক্ত।
একটি মজার তথ্য হলো, ২০১৩ সালে বিজয় দিবসে বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম মানব পতাকা তৈরির বিশ্ব রেকর্ড (গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড) গড়েছিল, যেখানে ২৭,১১৭ জন মানুষ অংশ নিয়েছিল। এটি পতাকার প্রতি বাঙালির প্রগাঢ় ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
না, ২রা মার্চ বাংলাদেশে কোনো সাধারণ বা সরকারি ছুটির দিন নয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক এবং অফিস-আদালত এই দিনে খোলা থাকে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরুর আগে বিশেষ সমাবেশ বা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যেহেতু এটি একটি কর্মদিবস, তাই দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে না। তবে ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় র্যালি বা সমাবেশের কারণে সাময়িক যানজট হতে পারে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আমাদের শিকড়ের কথা বলে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি স্বাধীন মানচিত্র ও পতাকার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ২রা মার্চের সেই সাহসী পদক্ষেপই পরবর্তীতে ২৬শে মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনে প্রেরণা জুগিয়েছিল। আজ যখন বিদেশের মাটিতে আমাদের পতাকা ওড়ে, তখন তা কেবল একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি আমাদের আত্মমর্যাদা ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। এই দিবসের চেতনা আমাদের হৃদয়ে আজীবন অম্লান থাকুক, এটাই হোক আজকের দিনের শপথ।
Common questions about National Flag Day in Bangladesh
২০২৬ সালে বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা দিবস March 2, 2026, Monday তারিখে পালন করা হবে। এই ঐতিহাসিক দিনটি আসতে আর মাত্র 58 দিন বাকি আছে। প্রতি বছর ২রা মার্চ বাংলাদেশে অত্যন্ত গর্বের সাথে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়, যা ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের স্মৃতি বহন করে।
না, জাতীয় পতাকা দিবস বাংলাদেশে কোনো সাধারণ সরকারি ছুটি নয়। এই দিনে স্কুল, কলেজ, ব্যাংক এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো খোলা থাকে। তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দেশপ্রেমমূলক দিবস। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ভবনে বিশেষ মর্যাদার সাথে পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় পতাকা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে তৎকালীন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করেন। এটি ছিল পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতার পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এই ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অনুপাত ১০:৬। এর গাঢ় সবুজ রঙ বাংলাদেশের চিরসবুজ প্রকৃতির প্রতীক এবং মাঝখানের লাল বৃত্তটি স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রক্ত ও উদীয়মান সূর্যের প্রতীক। প্রাথমিকভাবে পতাকার মাঝখানে সোনালী রঙের মানচিত্র ছিল, যা ১৯৭২ সালে কামরুল হাসানের পরিমার্জিত নকশায় বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি একটি লাল বৃত্ত সংবলিত সবুজ আয়তক্ষেত্র।
জাতীয় পতাকা দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, যেখানে প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন র্যালি, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য পতাকা তৈরির কর্মশালা এবং প্যারেডের আয়োজন করা হয়। এটি মূলত উৎসবের চেয়ে দেশপ্রেম ও ত্যাগের স্মরণে গম্ভীরভাবে পালিত হয়।
বাংলাদেশের প্রথম পতাকার নকশাটি ১৯৭০ সালের জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নম্বর রুমে গোপনে তৈরি করা হয়েছিল। এই নকশা প্রণয়নে সিরাজুল আলম খানসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা যুক্ত ছিলেন এবং শিব নারায়ণ দাস পতাকার মাঝখানে মানচিত্রটি এঁকেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে মানচিত্রটি সরিয়ে বর্তমান সহজতর নকশাটি গ্রহণ করা হয়।
বিদেশি পর্যটক বা দর্শনার্থীদের জন্য এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাস জানার এক অনন্য সুযোগ। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন এলাকা বা জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। দেশাত্মবোধক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় শালীন পোশাক পরা এবং জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। মার্চ মাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে (২৫-৩০° সেলসিয়াস), যা বাইরের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য উপযুক্ত।
হ্যাঁ, বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। জাতীয় পতাকা সর্বদা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ওড়ানো উচিত। শোক দিবসগুলোতে (যেমন ২১শে ফেব্রুয়ারি বা ১৫ই আগস্ট) পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, তবে পতাকা দিবসে এটি পূর্ণ মহিমায় উড্ডীন থাকে। ছেঁড়া বা বিবর্ণ পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ এবং পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। সাধারণ নাগরিকরা এই দিনে তাদের বাড়ি বা গাড়িতে পতাকা লাগিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
National Flag Day dates in Bangladesh from 2010 to 2025
| Year | Day of Week | Date |
|---|---|---|
| 2025 | Sunday | March 2, 2025 |
| 2024 | Saturday | March 2, 2024 |
| 2023 | Thursday | March 2, 2023 |
| 2022 | Wednesday | March 2, 2022 |
| 2021 | Tuesday | March 2, 2021 |
| 2020 | Monday | March 2, 2020 |
| 2019 | Saturday | March 2, 2019 |
| 2018 | Friday | March 2, 2018 |
| 2017 | Thursday | March 2, 2017 |
| 2016 | Wednesday | March 2, 2016 |
| 2015 | Monday | March 2, 2015 |
| 2014 | Sunday | March 2, 2014 |
| 2013 | Saturday | March 2, 2013 |
| 2012 | Friday | March 2, 2012 |
| 2011 | Wednesday | March 2, 2011 |
| 2010 | Tuesday | March 2, 2010 |
Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.