May Day

Bangladesh • May 1, 2026 • Friday

73
Days
07
Hours
26
Mins
22
Secs
until May Day
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
May Day
Country
Bangladesh
Date
May 1, 2026
Day of Week
Friday
Status
73 days away
About this Holiday
Labor Day, International Workers' Day, and May Day, is a day off for workers in many countries around the world.

About May Day

Also known as: মহান মে দিবস

বাংলাদেশে মহান মে দিবস: শ্রমিক অধিকার ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস

মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। প্রতি বছর ১লা মে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক শ্রেণির সংহতি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে এই দিনটি পালিত হয়। বাংলাদেশেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সরকারিভাবে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি লাল তারিখ নয়, বরং এটি সেই সব শ্রমিকের আত্মত্যাগের স্মারক যারা ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেট স্কয়ারে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

বাংলাদেশে মে দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখা। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক। তাই মে দিবস এখানে কেবল একটি দিবস নয়, বরং এটি শ্রমিকদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং তাদের কাজের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার গ্রহণের দিন। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে, কল-কারখানা থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামারে কর্মরত প্রতিটি মানুষের কাছে এই দিনটি মর্যাদার এক অনন্য প্রতীক।

বাংলাদেশে মে দিবস পালনের প্রেক্ষাপটটি অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং আবেগপূর্ণ। এদেশের শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখছেন। মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ ও সেমিনারগুলোতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের বিষয়গুলো জোরালোভাবে উঠে আসে। এটি এমন একটি দিন যখন সারা দেশ স্তব্ধ হয়ে শ্রমিকের ঘাম এবং শ্রমের মূল্যায়ন করতে শেখে।

2026 সালে বাংলাদেশে মে দিবস কবে?

২০২৬ সালে বাংলাদেশে মহান মে দিবস পালিত হবে নিম্নলিখিত সময়ে:

তারিখ: May 1, 2026 বার: Friday অবশিষ্ট সময়: আজকের দিন থেকে মে দিবস আসতে আর মাত্র 73 দিন বাকি রয়েছে।

বাংলাদেশে মে দিবসের তারিখটি একটি নির্দিষ্ট তারিখ (Fixed Date)। প্রতি বছর ১লা মে তারিখেই এই দিবসটি পালিত হয়। ২০২৬ সালে এটি সপ্তাহের একটি কর্মদিবসে (শুক্রবার) পড়ায় দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পূর্ণ দিবস ছুটি উপভোগ করবে এবং শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারবে।

মে দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

মে দিবসের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। তৎকালীন সময়ে শ্রমিকদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। মালিকরা শ্রমিকদের অমানবিক পরিবেশে দিনরাত খাটিয়ে নিত, যার বিনিময়ে মজুরি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। এই শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময়' নির্ধারণের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ১লা মে থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ৩রা ও ৪ঠা মে চরম রূপ ধারণ করে। ৪ঠা মে হে মার্কেট চত্বরে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন এবং অনেককে গ্রেফতার করে পরবর্তীতে ফাঁসি দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের এই রক্তঝরা আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১লা মে-কে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে মে দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের জন্য এই দিনটি প্রেরণার উৎস। যদিও শিকাগোর ঘটনার দেড়শ বছর হতে চলল, তবুও বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক আজও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো ঘটনাগুলো আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, মে দিবসের চেতনা বাংলাদেশে আজও কতটা প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালে একটি শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংস্কারগুলোর মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মানদণ্ড অনুযায়ী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে মে দিবস পালনের রীতি ও কর্মসূচি

বাংলাদেশে মে দিবস কোনো উৎসবের মতো উদযাপন করা হয় না, বরং এটি অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং সংহতি প্রকাশের দিন হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে আনন্দ-উল্লাসের চেয়ে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং অধিকারের কথা বেশি উচ্চারিত হয়।

১. র‍্যালি ও মিছিল: মে দিবসের সকালে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। শ্রমিকরা লাল পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। ব্যানার ও ফেস্টুনে 'দুনিয়ার মজদুর এক হও', 'আট ঘণ্টা কাজ চাই', 'ন্যাজ্য মজুরি নিশ্চিত করো'—এই ধরনের স্লোগান লেখা থাকে।

২. শ্রমিক সমাবেশ ও সেমিনার: জাতীয় প্রেস ক্লাব, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় শ্রমিক নেতারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির মতো সংগঠনগুলো পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি পালন করে।

৩. সরকারি কর্মসূচি: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মে দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী এই উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেন। তারা শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের মহান কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

৪. মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মে দিবস উপলক্ষে বিশেষ টক-শো এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে যেখানে শ্রম আইন, শ্রমিক অধিকার এবং ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ ছাপা হয়। যদিও কোনো বড় ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্যারেড হয় না, তবে অনেক জায়গায় শ্রমিকদের জীবন নিয়ে নাটক বা গণসংগীতের আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক থিম ও স্লোগান

বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য বা থিমকে সামনে রেখে মে দিবস পালন করে। ২০২৫ সালের থিম: "শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি" অথবা "শ্রমিক-মালিক সংহতি; দেশ পুনর্গঠনে নতুন গতি"। পূর্ববর্তী বছরের থিম: "শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ; স্মার্ট হবে বাংলাদেশ"। এই স্লোগানগুলো মূলত মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব প্রকাশ করে।

পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

আপনি যদি মে দিবসের সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেন, তবে কিছু ব্যবহারিক বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

পরিবহন ও সেবা: মে দিবস একটি সাধারণ ছুটি হওয়ায় ব্যাংক, সরকারি অফিস এবং অনেক বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। গণপরিবহন চললেও র‍্যালির কারণে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে যানজট হতে পারে। বিশেষ করে মতিঝিল, পল্টন এবং প্রেস ক্লাব এলাকা এড়িয়ে চলা ভালো। আচরণবিধি: মে দিবসের কর্মসূচিগুলো মূলত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কেন্দ্রিক। তাই কোনো র‍্যালি বা সমাবেশের আশেপাশে থাকলে শান্ত ও শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। শ্রমিকদের আবেগ এবং তাদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। আবহাওয়া: মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সাধারণত প্রাক-বর্ষা মৌসুম চলে। আবহাওয়া বেশ গরম এবং আর্দ্র থাকে (তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে)। যারা আউটডোর ইভেন্টে অংশ নেবেন, তাদের প্রচুর পানি পান করা এবং ছাতা সাথে রাখা উচিত। নিরাপত্তা: মে দিবসে সাধারণত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না, তবে বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলাই ভালো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই দিনে সতর্ক অবস্থানে থাকে।

রানা প্লাজা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা দিবস

বাংলাদেশে মে দিবসের আলোচনার সাথে ২৪শে এপ্রিলের স্মৃতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এই ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে আসে। অনেক সংগঠন ২৪শে এপ্রিলকে 'শ্রমিক নিরাপত্তা দিবস' হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছে। মে দিবসের আলোচনায় রানা প্লাজার শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিকে আরও জোরালো করা হয়।

মে দিবস কি বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে মে দিবস একটি বাধ্যতামূলক সাধারণ ছুটি (Public Holiday)।

অফিস-আদালত: দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক-বীমা এই দিনে বন্ধ থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মে দিবস উপলক্ষে ছুটি থাকে। শিল্প-কারখানা: পোশাক কারখানাসহ অধিকাংশ কল-কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। তবে কিছু জরুরি সেবা বা বিশেষ প্রয়োজনে কাজ চললে শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরি বা কম্পেনসেটরি লিভ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

  • বাজার ও শপিং মল: অনেক বড় শপিং মল বন্ধ থাকে, তবে স্থানীয় কাঁচাবাজার বা মুদি দোকান আংশিক সময় খোলা থাকতে পারে।
মহান মে দিবস বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের কাছে এক পরম পাওয়া। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কোনো দেশের সমৃদ্ধি তার শ্রমিকের ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। শ্রমিকদের শোষণমুক্ত সমাজ গঠন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মে দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মে দিবস কেবল একটি ছুটি নয়, এটি একটি সংগ্রামের নাম, একটি বাঁচার দাবির নাম এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিন।

2026 সালের May 1, 2026 তারিখে বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রমিকের ঘরে এবং কর্মস্থলে মে দিবসের চেতনা নতুন করে জাগ্রত হোক—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

Frequently Asked Questions

Common questions about May Day in Bangladesh

২০২৬ সালে বাংলাদেশে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস May 1, 2026 তারিখে পালিত হবে। ওই দিনটি সপ্তাহের Friday। আজকের দিন (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) থেকে মে দিবস আসতে আর মাত্র 73 দিন বাকি রয়েছে। এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্মারক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।

হ্যাঁ, মে দিবস বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত জাতীয় ও সরকারি ছুটির দিন। এই দিনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। এছাড়া বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও এই দিনটি ছুটি হিসেবে পালন করে। সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ ও অনুষ্ঠান প্রচার করে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে।

মে দিবস ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। তৎকালীন শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের জন্য আট ঘণ্টা কর্মদিবস এবং উন্নত কর্মপরিবেশের স্বীকৃতি আসে। বাংলাদেশেও এই দিনটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

বাংলাদেশে মে দিবস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ঢাকা ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে র‍্যালি, সেমিনার, সমাবেশ ও পতাকা উত্তোলনের আয়োজন করে। শ্রমিক নেতারা শোভাযাত্রার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান। এটি উৎসবের চেয়েও সংহতি প্রকাশের এবং অধিকার সচেতনতার দিন হিসেবে বেশি পরিচিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মে দিবসের প্রতিপাদ্যগুলো শ্রমিক ও মালিকের ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছে। যেমন ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য ছিল 'শ্রমিক-মালিক গড়বে দেশ; স্মার্ট হবে বাংলাদেশ'। এই থিমগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিক ও মালিকের যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

মে দিবসের দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকায় গণপরিবহন ও জরুরি পরিষেবা সীমিত থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। যেহেতু এই দিনে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের শ্রমিক র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, তাই চলাচলের সময় যানজট এড়াতে সতর্ক থাকা উচিত। সমাবেশের সময় একটি গম্ভীর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা বাঞ্ছনীয় এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলা উচিত।

মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সাধারণত প্রাক-বর্ষা মৌসুম চলে। এ সময় আবহাওয়া বেশ উত্তপ্ত ও আর্দ্র থাকে, তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। যারা মে দিবসের র‍্যালি বা আউটডোর অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়া জরুরি। মাঝে মাঝে এই সময়ে কালবৈশাখী ঝড় বা আকস্মিক বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালে একটি শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে যা শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে সুপারিশ জমা দেয়। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান খাত পোশাক শিল্পে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মে দিবস এই সংস্কারগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

Historical Dates

May Day dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Thursday May 1, 2025
2024 Wednesday May 1, 2024
2023 Monday May 1, 2023
2022 Sunday May 1, 2022
2021 Saturday May 1, 2021
2020 Friday May 1, 2020
2019 Wednesday May 1, 2019
2018 Tuesday May 1, 2018
2017 Monday May 1, 2017
2016 Sunday May 1, 2016
2015 Friday May 1, 2015
2014 Thursday May 1, 2014
2013 Wednesday May 1, 2013
2012 Tuesday May 1, 2012
2011 Sunday May 1, 2011
2010 Saturday May 1, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.