Bangabandhu Homecoming Day

Bangladesh • January 10, 2026 • Saturday

7
Days
14
Hours
10
Mins
48
Secs
until Bangabandhu Homecoming Day
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Bangabandhu Homecoming Day
Country
Bangladesh
Date
January 10, 2026
Day of Week
Saturday
Status
7 days away
Weekend
Falls on weekend
About this Holiday
Bangabandhu Homecoming Day is a observance in Bangladesh

About Bangabandhu Homecoming Day

Also known as: বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: বাঙালির পূর্ণতা প্রাপ্তির দিন

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য এবং অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করলেও, বাঙালির সেই স্বাধীনতা ছিল অপূর্ণ। কারণ, স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে। এই দিনটি কেবল একজন নেতার ঘরে ফেরার দিন নয়, বরং এটি ছিল একটি সদ্য স্বাধীন জাতির আত্মবিশ্বাস এবং সার্বভৌমত্বের প্রকৃত সূচনালগ্ন।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিজয় ছিল অনেকটা অভিভাবকহীন পরিবারের আনন্দের মতো। ১০ই জানুয়ারি যখন তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষের আনন্দাশ্রু আর 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির মুক্তি তখনই নিশ্চিত হয় যখন তার অবিসংবাদিত নেতা তার জনগণের মাঝে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস তাই বাঙালির জাতীয় জীবনে এক পরম প্রাপ্তি এবং উৎসবের দিন।

বঙ্গবন্ধুর এই প্রত্যাবর্তন ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক নাটকীয় এবং রোমাঞ্চকর ঘটনা। পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন এবং নয়াদিল্লি হয়ে তিনি যখন ঢাকায় পৌঁছান, তখন সারা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিল। এই দিনটি বাংলাদেশের পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর যাত্রার শুরু নির্দেশ করে। এটি এমন এক দিন যা আমাদের শেখায় দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং নেতার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসার শক্তি।

2026 সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কবে?

২০২৬ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হবে নির্ধারিত তারিখে। নিচে এই বছরের উদযাপনের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

তারিখ: January 10, 2026 বার: Saturday বাকি সময়: এই মহান দিনটি আসতে এখনো 7 দিন বাকি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে পালিত হয়। এটি কোনো পরিবর্তনশীল দিবস নয়; প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১০ই জানুয়ারি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে এই দিবসটি পালন করা হয়। যেহেতু এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত, তাই এর তারিখটি অপরিবর্তিত থাকে।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ইতিহাস বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু করে এবং নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ধানমন্ডির বাসভবন থেকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর পরপরই পাকিস্তানি সেনারা তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অন্ধকার কারাগারে বন্দি করে রাখা হয় এবং প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। এমনকি তার কবরের জন্য কারাগারের পাশে গর্তও খোঁড়া হয়েছিল।

১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জনমত এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিমানে করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এরপর ৯ই জানুয়ারি তিনি ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে নয়াদিল্লিতে যাত্রা করেন। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অবশেষে ১০ই জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। তেজগাঁও বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিল লাখো মানুষ। বিমান থেকে নামার পর বঙ্গবন্ধু যখন তার প্রিয় দেশের মাটি স্পর্শ করেন, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), যেখানে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, "আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।"

এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন ফিরে না আসতেন, তবে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বিভিন্ন উপদলীয় কোন্দল এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বের কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। তার প্রত্যাবর্তন ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি।

দিবসটির উদযাপন ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালন করা হয়। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম। দিনটি উদযাপনে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়:

১. জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন: সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনেও জাতীয় পতাকা উড়ানো হয়।

২. বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন: ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এটি দিবসের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।

৩. আলোচনা সভা ও সেমিনার: এই দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন, সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অপরিসীম অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ১০ই জানুয়ারির ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নাটকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

৫. দোয়া ও মোনাজাত: জাতির পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

৬. টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কেন এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ব্যক্তির ফিরে আসা ছিল না, এটি ছিল একটি আদর্শের বিজয়। এই দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:

স্বাধীনতার পূর্ণতা: ১৬ই ডিসেম্বর সামরিক বিজয় অর্জিত হলেও, রাজনৈতিক বিজয় পূর্ণতা পায় ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ফেরার মাধ্যমে। তার অনুপস্থিতিতে বাংলার মানুষের মনে যে অপূর্ণতা ছিল, তা এই দিনে দূর হয়। দেশ গঠন ও সংবিধান: বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দেন। তার নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কূটনীতির কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। তিনি 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'—এই পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন।

  • ঐক্য রক্ষা: যুদ্ধের পর দেশে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক মতভেদের কারণে যে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি ছিল, বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি তা দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করে।
বঙ্গবন্ধু তার ১০ই জানুয়ারির ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি জনগণকে কঠোর পরিশ্রম করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই নির্দেশনা আজও বাংলাদেশের মানুষের পথ চলার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

এটি কি সরকারি ছুটির দিন?

বাংলাদেশে ১০ই জানুয়ারি অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি জাতীয় দিবস, তবে এটি সাধারণ ছুটির দিন (Public Holiday) হিসেবে ঘোষিত নয়। এই দিনে সব সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক-বীমা খোলা থাকে। তবে দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরে বিশেষ আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যদিও এটি ছুটির দিন নয়, তবুও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাটে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মাইকে বাজানো হয় এবং জনমনে এক ধরণের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী মানুষেরা দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করেন।

উপসংহার

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা এক মহান নেতার উত্তরসূরি যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। ১০ই জানুয়ারি আমাদের শপথ নেওয়ার দিন—বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার দিন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের বুলেটে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেও তার আদর্শ ও চেতনা আজও অম্লান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমরা সেই মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তার দেখানো পথে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করি। বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা ছিল বাঙালির অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার দিন, আর সেই আলো আজও আমাদের পথ দেখিয়ে চলেছে।

Frequently Asked Questions

Common questions about Bangabandhu Homecoming Day in Bangladesh

২০২৬ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস January 10, 2026 তারিখে পালিত হবে, যা ওই বছরের একটি Saturday। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক দিনটি আসতে আর মাত্র 7 দিন বাকি রয়েছে।

না, বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশে কোনো সাধারণ সরকারি ছুটি নয়। তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা বিশেষ কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থায় দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়, যদিও অফিস-আদালত এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়। দীর্ঘ ২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে অমানুষিক নির্যাতন ও প্রহসনের বিচার শেষে তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন। এই দিনটি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক আবেগঘন মুহূর্ত এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এক অনন্য মাইলফলক।

পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হওয়ার পর তিনি সরাসরি বাংলাদেশে আসতে পারেননি। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি প্রথমে লন্ডনে পৌঁছান, সেখানে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। এরপর ১০ জানুয়ারি সকালে তিনি ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। একই দিন দুপুরে তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পদার্পণ করেন।

বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং দোয়া মাহফিল। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় যেখানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারির ভাষণ এবং তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

১০ জানুয়ারি বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু এক আবেগপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে দেশবাসীকে স্বাধীনতা রক্ষা এবং দেশ পুনর্গঠনের ডাক দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে এবং এর ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'সোনার বাংলা' গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা আজও বাংলাদেশের উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগায়।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের কাজে হাত দেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। তার 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়' এই পররাষ্ট্রনীতির কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। তিনি ভারতীয় মিত্র বাহিনীকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো সংস্কার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনায় মনোনিবেশ করেন।

যারা এই দিনে ঢাকা ভ্রমণ করবেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করা। তবে এই দিনে সেখানে ব্যাপক ভিড় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে পারে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং এর আশেপাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলায় ট্রাফিক জ্যাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যাতায়াতের জন্য হাতে বাড়তি সময় রাখা এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সময়সূচী জেনে নেওয়া ভালো।

Historical Dates

Bangabandhu Homecoming Day dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Friday January 10, 2025
2024 Wednesday January 10, 2024
2023 Tuesday January 10, 2023
2022 Monday January 10, 2022
2021 Sunday January 10, 2021
2020 Friday January 10, 2020
2019 Thursday January 10, 2019
2018 Wednesday January 10, 2018
2017 Tuesday January 10, 2017
2016 Sunday January 10, 2016
2015 Saturday January 10, 2015
2014 Friday January 10, 2014
2013 Thursday January 10, 2013
2012 Tuesday January 10, 2012
2011 Monday January 10, 2011
2010 Sunday January 10, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.